বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ক্ষমতার পালাবদলে বদলে গেল পরিচয়, রিকশা বশির এখন বিএনপিতে ট্রাম্পের নৈশভোজসহ প্রথম দিনে ১০ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ থানার পেছনে ছিনতাই ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের পর ওসিকে বদলি জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইত্যাদি এবার নকশিকাঁথার জামালপুরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিত্র পরিচালক ইকবালের রেস্টুরেন্টে চাঁদা দাবির অভিযোগ হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ নৃত্যের নামে অশ্লীলতা, পালাতক আলিফকে খুঁজছে পুলিশ মৌরাট ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সাদ্দাম লস্করের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়রা

১৯ দফা থেকে পরিবর্তনের রাজনীতি: উত্তরাধিকার ও ধারাবাহিকতা

মাহমুদ নিয়াজ চন্দ্রদ্বীপ
  • প্রকাশ সময় : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মাহমুদ নিয়াজ চন্দ্রদ্বীপ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কেবল একজন শাসক নন, তিনি ছিলেন একটি রাজনৈতিক দর্শনের প্রণেতা। স্বাধীনতা পরবর্তী বিপর্যস্ত বাংলাদেশে তিনি যে ১৯ দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেছিলেন, তা ছিল রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি বাস্তবভিত্তিক রূপরেখা।
এই ১৯ দফার মূল ছিল—জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্র, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন এবং আত্মমর্যাদাশীল জাতীয়তাবাদ।

জিয়াউর রহমান রাজনীতিকে আদর্শের সঙ্গে বাস্তবতার সংযোগ ঘটিয়েছিলেন। তাঁর রাজনীতি ছিল না কেবল ক্ষমতা কেন্দ্রিক; ছিল রাষ্ট্র ও জনগণকেন্দ্রিক। “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ” ধারণার মাধ্যমে তিনি জাতিকে বিভাজনের রাজনীতি থেকে বের করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিচয়ের পথে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন।

এই দর্শনের বাস্তবায়ন ও আধুনিক রূপ দেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে, সংসদীয় ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনে এবং “পরিবর্তনের রাজনীতি”কে বাস্তব রূপ দেয়। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়ন—সবই ছিল সেই পরিবর্তনের রাজনীতির অংশ।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি দেখিয়েছে—ক্ষমতা নয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড। তাঁর সময়েই বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের সংস্কৃতি জোরদার হয়।

এই ধারাবাহিকতার বর্তমান উত্তরাধিকারী হলেন তারেক রহমান। তিনি রাজনীতিকে সময়োপযোগী করে তুলছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ নয়, বরং ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে। তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনে রয়েছে—
• পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা (ফ্যামিলি কার্ড)।
• কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন।
• রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা।
• আইনের শাসন ও জবাবদিহি।
• ক্ষমতার আগে দেশ, ব্যক্তির আগে জনগণ।

তারেক রহমানের রাজনীতি অতীতের উত্তরাধিকার বহন করে, কিন্তু সেখানে আটকে থাকে না।
তিনি বুঝেছেন—আজকের রাজনীতি কেবল স্লোগানের নয়, নীতিনির্ধারণ ও বাস্তব প্রয়োগের। তাই তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি আদর্শগতভাবে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা থেকে শক্তি নেয়, বেগম খালেদা জিয়ার পরিবর্তনের রাজনীতি থেকে শিক্ষা নেয় এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তৈরি করে।

এই ধারাবাহিকতায় একটি বিষয় পরিষ্কার—জিয়া পরিবারে রাজনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে আসে ক্ষমতা হিসেবে নয়, আসে দায়িত্ব হিসেবে।

বাংলাদেশের মানুষ আজ আবার সেই ধারাবাহিকতা খুঁজছে—যেখানে রাজনীতি হবে দেশের জন্য,
ক্ষমতা নয় সেবার জন্য,
এবং যেখানে শেষ কথা বলবে জনগণ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ নাহিন খান
raytahost-tmnews71